

মনু নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘ডাক্তার বাড়ি’র বাসন্তী পূজার জমকালো সমাপ্তি
বিহিত পূজা আর দর্পণ ঘট বিসর্জনের পর মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটস্থ মনু নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল ঐতিহ্যবাহী ‘ডাক্তার বাড়ি’র ১১তম শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার।
২৮ মার্চ (শনিবার) বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় এক আবেগঘন পরিবেশে দেবীকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের পর্দা নামলো।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের নলদাড়িয়া গ্রামস্থ ‘ডাক্তার বাড়ি’তে গত ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) শুভ ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এ বছর পূজাটি ১১তম বর্ষে পদার্পণ করায় পুরো এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বইছিল আনন্দের আমেজ।

পূজার দ্বিতীয় দিন ২৫ মার্চ (বুধবার) মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও রাতে বর্ণাঢ্য আরতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাজশাহীর প্রখ্যাত শিল্পী শতরূপা হালদারের পরিবেশনায় ‘লীলা কীর্তন’, যা উপভোগ করতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ২৭ মার্চ (শুক্রবার) মহানবমীর রাতেও আরতি ও কীর্তনের আয়োজনে মুখরিত ছিল ডাক্তার বাড়ির মণ্ডপ। অবশেষে ২৮ মার্চ (শনিবার) বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায়। সেখানে মনু নদীর শান্ত জলে বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই শারদীয় আমেজমাখা বাসন্তী উৎসবের।

পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষে ডাসুভাশিষ দেব ঝলক জানান, শতবর্ষী এই পারিবারিক পূজাটি গত ১১ বছর ধরে এলাকার সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
রণজিৎ রনবীর জানান,ঐতিহ্যবাহী ডাক্তার বাড়ি প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পুরাণের কাহিনী অনুসারে রাজা সুরথ বসন্তকালে প্রথম দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেছিলেন বলেই একে ‘বাসন্তী পূজা’ বলা হয়। তারা বলেন, “জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উৎসবকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবারের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ৫ দিনব্যাপী এই পূজা কেবল ধর্মীয় আচারই নয়, বরং মৌলভীবাজারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। আগামী বছর আবারও নতুন উদ্দীপনায় দেবী আরাধনার সংকল্প নিয়ে শেষ হয় ডাক্তার বাড়ির এবারের বাসন্তী উৎসব।
Leave a Reply