
মৌলভীবাজারে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ডাক্তার বাড়ির ১১তম বাসন্তী পূজা
আর মাত্র দুই দিন! মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে মৌলভীবাজার সদর কনকপুর ইউনিয়নের নলদাড়িয়া গ্রামস্থ ঐতিহ্যবাহী ‘ডাক্তার বাড়ি’তে শুরু হতে যাচ্ছে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজা।
এ বছর পূজাটি ১১তম বর্ষে পদার্পণ করছে। উৎসবকে ঘিরে এলাকায় বইছে আনন্দের আমেজ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা ও আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী ২৪ মার্চ (৯ চৈত্র) মঙ্গলবার শুভ ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের বিস্তারিত সূচি নিম্নরূপ: ২৫ মার্চ (বুধবার) মহাসপ্তমী বিহিত পূজা, নবপত্রিকা প্রবেশ ও রাত ৮টা থেকে আরতি প্রতিযোগিতা।
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহাষ্টমী পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। রাত ১০টায় থাকছে বিশেষ আকর্ষণ—রাজশাহীর শতরূপা হালদারের পরিবেশনায় ‘লীলা কীর্তন’।
২৭ মার্চ (শুক্রবার): মহানবমী পূজা ও আরতি প্রতিযোগিতা। এই রাতেও পরিবেশিত হবে লীলা কীর্তন।
২৮ মার্চ (শনিবার): বিজয়া দশমী। বিহিত পূজা ও দর্পণ ঘট বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় আমেজমাখা বাসন্তী উৎসবের।
পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষে ডা. অমিয় কুমার দেব ও অমলেন্দু কুমার দেব জানান, প্রায় একযুগের এই পারিবারিক পূজাটি এখন এলাকার সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তারা বলেন, “আমরা প্রতিবছরের মতো এবারও ভক্তিভরে মায়ের আরাধনার আয়োজন করেছি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সকল স্তরের মানুষকে আমরা মা বাসন্তীর চরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, পুরাণের কাহিনী অনুসারে রাজা সুরথ বসন্তকালে প্রথম এই দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেছিলেন বলেই একে ‘বাসন্তী পূজা’ বলা হয়। নলদাড়িয়ার এই ডাক্তার বাড়িতে দীর্ঘ ১১বছর ধরে এই ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আয়োজক কমিটি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন।
Leave a Reply